২০২০ সালের বিসিএল-এ সেঞ্চুরির রেকর্ড

0
121
২০২০ সালের বিসিএল-এ সেঞ্চুরির রেকর্ড

রবিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের অষ্টম আসরের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে পূর্বাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো তিনশ রান করলেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। যা দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরি। তামিমের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন রকিবুল হাসানের। ২০০৭ সালে জাতীয় লিগের ম্যাচে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বরিশালের হয়ে সিলেটের বিপক্ষে ৩১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ডানহাতি রকিবুল। ৬৬০ মিনিট ৬০৯ বলে ৩৩ বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল ঐ ট্রিপল সেঞ্চুরি। রকিবুলের প্রায় ১৩ বছর পর এসে আজ দ্বিতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন তামিম।

প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা ব্যাটিং করে ৪০৭ বলে ৪০ চারের মারে তিনশ রান পূরণ করেছেন তামিম। তার পুরো ইনিংসে নেই কোনো ছক্কা। যা প্রমাণ করে, বড় ইনিংস খেলতে কত বদ্ধ পরিকর ছিলেন এ বাঁহাতি ওপেনার। পূর্বাঞ্চলের ইনিংসের ১৩৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আলতো করে কবজির মোচড়ে শর্ট মিড উইকেটের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েই ট্রিপল সেঞ্চুরি ক্লাবে প্রবেশ করেন তামিম। ৫৬০ মিনিটের এ ইনিংসটিকে তিনি সাজিয়েছেন ১০৯টি সিঙ্গেল, ১৪টি ডাবল, ১টি ট্রিপল ও ৪০টি বাউন্ডারির মাধ্যমে। তৃতীয় দিনের শুরুতে ২৮১ বল খেলে ২২২ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। খানিক রয়েসয়ে খেলে ১২৬ বল মোকাবেলা করে বাকি ৭৮ রান করেন তিনি। তবু আড়াইশ থেকে তিনশতে যেতে ৯২টি বল লেগেছে তামিমের। যা কি না তার এ ইনিংসের প্রথম পাঁচ ফিফটির চেয়ে ধীরতম। তামিমের ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ভর করে রানপাহাড়ে চড়েছে পূর্বাঞ্চল। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের (১১১) সঙ্গে ২৯৬ রানের বিশাল জুটি গড়ার পর, তৃতীয় উইকেটে ইয়াসির আলি রাব্বির সঙ্গে এরই মধ্যে ১৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন তামিম। চট্টগ্রামের ছেলে ইয়াসির ১৬২ বল খেলে ৫২ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

এদিকে দিনের অপর ম্যাচে তিন শতকে উত্তরাঞ্চলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে দক্ষিণাঞ্চল। পাকিস্তান সফরের আগে প্রস্তুতিটা বেশ ভালো করেই সেরে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুঃসময় কাটিয়ে শতরান পেলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। চার দিনের ম্যাচে অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলেই তার ব্যাটে দেখা মিলল শতরান। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডে চট্টগ্রামে তার পাশাপাশি শতরান পেলেন শাহরিয়ার নাফীস ও শামসুর রহমান। তিন শতকে উত্তরাঞ্চলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে দক্ষিণাঞ্চল।

সত্যিকার অর্থেই ব্যাট হাতে দুঃসময়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। টেস্টে সর্বশেষ ৬ ইনিংসে পাঁচবারই আটকে গেছেন ১৬ রানের নিচে। পাকিস্তানের সঙ্গে ৭ ফেব্রুয়ারি টেস্ট ম্যাচ। তার আগে ব্যাট হাতে প্রস্তুতিটা দারুণ হলো তার। তুলে নিয়েছেন শতক। যা কীনা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার তের নম্বর সেঞ্চুরি। চার দিনের ম্যাচে মাত্র ৭০ বলে তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন তিনি।
রবিবার ১ উইকেটে ৪০ রান নিয়ে দিন শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল। এরপর শাহরিয়ার ও শামসুরের ব্যাটিংয়ে পথ খুঁজে নেয়। দু’জনই করেন শতক। ২৫১ বলে ১২ চারে ১১১ রান করে আরিফুল হকের বলে জুনায়েদ সিদ্দিকীর হাতে ক্যাচ দেন শাহরিয়ার। ২১১ রানের জুটি গড়ে ফেরেন তিনি। এই ইনিংস খেলার পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আট হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন শাহরিয়ার নাফীস। তিন অঙ্কে পা দিয়ে ফেরেন শামসুর। ২২২ বলে ১০৯ রানে আউট তিনি। এটি তার ১৯তম সেঞ্চুরি।

এরপর উইকেটে নেমে ঝড় তুলেন মাহমুদউল্লাহ। এনামুল হককে নিয়ে ৪৪ বলে তুলেন পঞ্চাশ। এনামুল তিনটি করে ছক্কা ও চারে অপরাজিত ৬৪ রান। ৭৯ বলে ১০০ রান। ১০৮ বলে দেড়শ। মাহমুদউল্লাহ ৭০ বলে পাঁচ ছক্কা ও আট চারে শতক করতেই দ্বিতীয় ইনিংস ৩ উইকেটে ৩৯৮ রানে ঘোষণা করে দক্ষিণাঞ্চল দল । জিততে লক্ষ্য ৪৫৪ রান। এ অবস্থায় রোববার ম্যাচের তৃতীয় তিন শেষে বিনা উইকেটে ২২ রান করেছে উত্তরাঞ্চল। উইকেটে আছেন মিজানুর রহমান (১৫) ও রনি তালুকদার (৭)।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here