সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: ট্রাম্প

donald-trump-saudi-arabia-usa-relation-jaman-kasoggi-post-by-ashraful-mahbub

সৌদি রাজতন্ত্রের সমালোচক হিসেবে পরিচিত সংস্কারপন্থী সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডে সৌদি সরকার ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার পরও সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডে সৌদি সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে আগে থেকেই জানতেন।

ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ইতিমধ্যে সৌদি সরকার যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে আর এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। অতএব যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে যেকোনো পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

ট্রাম্প সংবাদিকদের বলেন খাশোগি হত্যাকান্ডে সৌদি আরবের দায় সত্ত্বেও, সৌদি আরবকে পরিত্যাগ করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক এক ভুল। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ।

ট্রাম্প বলেন যে কোন পরিস্থিতিতে আমরা সৌদি আরবের পাশে থাকছি। ইরান ইস্যুতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এর পাশাপাশি অনেক সৌদি কোম্পানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প,কৃষি,প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করছে ,এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বেকারদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ।

ট্রাম্প আরও বলেন, যদিও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে আগে থেকেই জানতেন, তবে এই হত্যাকান্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে।

গত ১৭ নভেম্বর মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’- সিআইএ জামাল খাশোগির হত্যাকান্ডের ঘটনা তদন্ত করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন ।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এটাও বলা হয় যে, সিআইএ তাদের তদন্তে এটার প্রমান পেয়েছে যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এ হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন। এই তদন্তে খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে খাশোগির ফোনালাপও যাচাই করা হয়েছে। ফোনালাপে খালিদ বিন সালমান, খাশোগিকে নির্ভয়ে ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাস থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলেন এবং তার কোন ক্ষতি করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু তা হয়নি। সৌদি দূতাবাসে প্রবেশের পর হত্যা করা হয় তাকে। আর এর পর পরই অনেকটা গোপনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন দেশটিতে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমান।

গত ২ অক্টোবর সৌদি রাজতন্ত্রের সমালোচক হিসেবে পরিচিত সংস্কারপন্থী সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে প্রবেশ করেন এবং এরপর তিনি নিখোঁজ হন, এর পরই তাকে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

প্রথমে এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে সৌদি আরব। পরে একপর্যায়ে সৌদি জানায় খাশোগিকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে নেবার চেষ্টাকালে সৌদি কর্মকর্তাদের সাথে মারামারিতে নিহত হন খাশোগি।

Please follow and like us:

Post Reads: 49 Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *