রাইফেল রোটি আওরাত: রক্তের অক্ষরে লেখা কালজয়ী উপন্যাস

রাইফেল-রোটি-আওরাত হচ্ছে আনোয়ার পাশার লেখা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক একটি উপন্যাস। এটিই একমাত্র উপন্যাস যেটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা হয়।  উল্লেখ্য এই উপন্যাসটির রচয়িতা দেশের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারেননি। ৭১ এর ১৪ ডিসেম্বরে আরো অনেকজন বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকেও হত্যা করেছিল পাকিস্তানী হানাদার এবং তাদের দোসর আল-বদর। উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল ৭১ এর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে। সে সময়ই লেখক নিশ্চিত বিজয় দেখতে পেয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজেই হয়ে গিয়েছিলেন উপন্যাসের অংশ।

যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী বাহিনী রাইফেলের মুখে আমাদের অস্তিত্ব হরণ করে, রোটি অর্থাৎ আমাদের খাদ্যের যোগানে বাধার সৃষ্টি করে এবং আওরাত হচ্ছে সেই ৩ লক্ষ মা বোন যাদের সম্ভ্রম কেড়ে নেয় সেই হানাদার বাহিনী। রাইফেল রোটি আওরাত বলতে লেখক এটিই বুঝাতে চেয়েছেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে দাড়িয়েও তিনি লিখে গেছেন এই অসামান্য বইটি নতুন প্রজন্মের জন্য। এটি আমাদের ঐতিহাসিক দলিল বললেও ভুল বলা হবে না।

পৃথিবীতে এ রকম নজির আর কি আছে? আর কাউকে কি নিজের জীবন দিয়ে লিখতে হয়েছে জাতীয় জীবনের করুণ-কঠিন ট্র্যাজিক আখ্যান?

২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশ যে মৃত্যুর বিভীষিকায় ডুবেছিল, তার ভেতরে রক্ত, লাশ আর নরক সমান ভয়াবহতার মধ্যে আনোয়ার পাশা লিখছেন ওই মৃত্যুরই আখ্যান। এটি ২৫ মার্চের পরের তিন দিনের গল্প। এই গল্প ইতিহাস, এই গল্প একাত্তরের রক্তের ডাক। এই কাহিনী শত্রু-কবলিত বাংলাদেশের মুক্তির সাহসী প্রতিজ্ঞা।

বইটির মূল কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র:

১.সুদীপ্ত শাহিন ।

২.মীনাক্ষি যিনি সুদীপ্ত শাহিনের স্ত্রী।

৩.মহীউদ্দিন ফিরোজ সুদীপ্ত শাহিনের বন্ধু।

এছাড়াও অনেক বুদ্ধিজীবী যেমন, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড: গোবিন্দ চন্দ্র দেব, বঙ্গবন্ধু সহ আরো অনেককে উপস্থাপিত করা হয়।

বইটিতে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানী বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের করুন বেদনা সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারি।

২৫ মার্চ ভয়াল কাল রাত্রিতে যে হত্যা যজ্ঞ চালানো হয় সেই ঘটনা এবং পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের গর্জে উঠা সর্ম্পেকেও বলা হয়েছে। এ শুধে একাত্তরে মানুষের আর্তনাদের চিত্র নয় এতে রয়েছে দীপ্ত যৌবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এই গল্পের শক্তি এতই তীব্রতর যে হাজার বছর পরেও বাঙালী জাতি সত্ত্বার পরিচয় পাওয়া যাবে বইটি থেকে।

Please follow and like us:

Post Reads: 397 Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *