মানুষকে পানি পান করানোর ফযীলত সম্পর্কে ছহীহ হাদীছ শরীফ

মানুষকে পানি পান করানোর ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। যেমন একদা হযরত  সা‘দ বিন ওবাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ , হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -্উনার নিকট এসে বললেন, আপনার নিকট কোন ছাদাক্বা সর্বাধিক পছন্দনীয়? তিনি বললেন, পানি পান করানো’ (আবু দাঊদ শরীফ -১৬৭৯; হাকেম শরীফ-১৫১১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ , হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, পানি পান করানো অপেক্ষা অধিক ছওয়াবপূর্ণ ছাদাক্বা আর নেই’ (বায়হাক্বী শরীফ, শু‘আবুল ঈমান হা/৩৩৭৮; ছহীহ আত–তারগীব হা/৯৬০)। হযরত  সা‘দ বিন ওবাদাহ  রাদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, হে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ , হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উম্মু সা‘দ মৃত্যুবরণ করেছেন, (তার পক্ষ হ’তে) কোন ছাদাক্বা সর্বোত্তম হবে? তিনি বললেন, পানি পান করানো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি একটি কূপ খনন করে বললেন, এটা উম্মু সা‘দের (কল্যাণের) জন্য ওয়াকফ করা হ’ল (আবুদাঊদ শরীফ-১৬৮১; মিশকাত  শরীফ-১৯১২)। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ , হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, যে ব্যক্তি পানির কূপ খনন করল, আর সে কূপ থেকে মানুষ, জিন বা কোন পাখি পানি পান করল। এর বিনিময়ে আল্লাহ পাক তাকে ক্বিয়ামতের দিন ছওয়াব প্রদান করবেন (ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/১২৯২; ছহীহ আত–তারগীব হা/৯৬৩)।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ , হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের দেহে তিনশত ষাটটি হাড় বা জোড় বা গ্রন্থি রয়েছে। এগুলোর প্রতিটির জন্য প্রত্যেক দিন ছাদাক্বা রয়েছে। প্রতিটি উত্তম কথাই ছাদাক্বা। এক ভাইয়ের পক্ষ হ’তে অন্য ভাইকে সাহায্য করা ছাদাক্বা। এক ঢোক পানি পান করানো ছাদাক্বা। পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্ত্ত সরিয়ে দেওয়াও ছাদাক্বা’ (আল–আদাবুল মুফরাদ হা/৪২২; ছহীহাহ হা/৫৭৬)। এছাড়া জনৈকা বেশ্যা নারী একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করালে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন (বুখারী  শরীফ  – ৩৪৬৭; মুসলিম শরীফ – ২২৪৫; মিশকাত শরীফ-১৯০২)।

Please follow and like us:

Post Reads: 274 Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *