ভালবাসা দিবসের আজব সব তথ্য !

আজ বিশ্বজুড়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ভালোবাসা দিবস। আজকের দিনে দেশে দেশে হৃদয় আঁকা কার্ড, চকলেটের বাক্স, লাল গোলাপ, ভালোবাসা বার্তা লেখা টি–শার্ট পরা টেডি বিয়ার পুতুল প্রিয় মানুষকে উপহার দেন লোকজন। আজকের দিনে এসে ভালোবাসা দিবস শুধুই একটি অনুভূতির উদ্‌যাপন নয়, ভীষণভাবে বাণিজ্যিক উদ্‌যাপনও বটে।

জাপানে একে রোমান্টিক পুঁজিবাদ বলে বিক্ষোভও করে আসছে কিছু সংগঠন। তবু প্রিয়জনের প্রতি আজ ভালোবাসা প্রকাশ থেমে থাকবে না মানুষের।

ভালোবাসা দিবসের প্রাচীনতম কবিতাটি লিখেছিলেন এক ফরাসি রাজপুত্র। ১৪১৫ সালে আজাঁকুর যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে বন্দী ডিউক অব অলিয়ঁ শার্ল কারাগারে বসে তাঁর স্ত্রীর উদ্দেশে ওই কবিতা লেখেন। অবশ্য ভ্যালেন্টাইনস ডে উদ্‌যাপিত হচ্ছে তারও হাজার বছর আগ থেকে। ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে পোপ প্রথম গেলাসিয়াস ভালোবাসার কারণে তৃতীয় শতকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ঈশ্বরের প্রিয় তালিকায় যুক্ত করেন। তখন থেকে তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা উদ্‌যাপিত হতে থাকে। ভালোবাসার সঙ্গে সব সময়ই হৃদয়ের সম্পর্ক দেখে আসছে মানুষ। এর কারণ প্রাচীন মিসরীয়দের বিশ্বাস। তারা বিশ্বাস করত, হৃৎপিণ্ড সব স্মৃতির উৎস। সেই সঙ্গে আবেগেরও। এই অঙ্গকে তারা এতই বেশি মূল্য দিত যে মমি করার সময় বাকি সব অঙ্গ ফেলে দিলেও হৃৎপিণ্ড শরীরের ভেতর রেখে দিত।

এ ছাড়া অ্যারিস্টটলও বিশ্বাস করতেন, হৃৎপিণ্ডই বুদ্ধিমত্তার ধারক অঙ্গ। ১৮ শতকে ইংল্যান্ডে ভালোবাসা দিবস বাণিজ্যিক ব্যাপকতা লাভ শুরু করে। ১৯১৩ সালে হলমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস শহরে ভালোবাসা দিবসে প্রথম গণহারে কার্ডের বিপণন শুরু করে। নারী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলে কুসংস্কার রটে, কার্ডে নিজের নাম কার্ডে সই করলে দুর্ভাগ্য ডেকে আনে। তাই কার্ডে এখনো সবাই ‘তোমার ভ্যালেন্টাইনের কাছ থেকে’ লিখেই ছেড়ে দেন। ভিক্টোরীয় যুগেই ভালোবাসা দিবসে গোলাপ বিনিময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর কারণ, রোমান প্রেমের দেবী ভেনাসের প্রিয় ফুল গোলাপ। এখন প্রতিবছর পাঁচ কোটি গোলাপ বিনিময় হয় এ দিনটিতে।

তবে বেতিক্রমী আয়োজন ও রয়েছে

ভালবাসা দিবস অন্ন ভাবে ও পালন করে কিছু দেশ

 

ব্যতিক্রমী আয়োজন
আজ ভারতের গুজরাটে প্রায় ১০ হাজার ছাত্র একটি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তারা ‘বাবা মায়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে না’ বলে শপথ নেবে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ভালোবাসা দিবসের বদলে ‘বোন দিবস’ পালন করা হবে। দুই বৈরী দেশেরই এই আয়োজন পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বিরোধিতা করে।

 

Please follow and like us:

Post Reads: 108 Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *