বন্ধ হয়ে গেল চীনে কাঁকড়া রফতানি

0
136
চীনে কাঁকড়া ও কুচে রফতানি বন্ধ, বিপাকে খামারীরা

চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে সুন্দরবন সন্নিহিত ৫টি জেলার হাজারও কাকড়া খামারী কাঁকড়া রফতানি করতে না পেরে বিপদে পড়েছে।

বাগেরহাট জেলার উৎপাদিত প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন শিলা কাঁকড়ার ৭০ ভাগই রফতানি হতো চীনে। করোনাভাইরাসের কারণে ২৩ জানুয়ারি থেকে চীনে বাগেরহাট জেলাসহ বাংলাদেশের শিলা কাঁকড়া ও কুচে রফতানি সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে। একদিকে প্রধান আমদানিকারক দেশ চীনে শিলা কাঁকড়া ও কুচে রফতানি সম্পূর্ন বন্ধ থাকায় ও শীতকালের শেষে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানিতে লবণাক্ততার পরিমান ৫ পিপিটি’র নিচে নেমে যাওয়ায় খামারে উৎপাদিত কাঁকড়া মরতে শুরু করেছে।

বর্তমানে কেজিপ্রতি ৩ হাজার টাকা শিলা কাঁকড়া বর্তমানে ৬ থেকে ৮ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬শ টাকার কুচে ১শ৫০ থেকে ২শ টাকায় নেমেছে । এই অবস্থায় কাঁকড়া খামারী ও কুচে ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

মৎস্য বিভাগের হিসেবে গত অর্থবছরে বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনাসহ সুন্দরবন সন্নিহিত ৫টি জেলা ছাড়াও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ হাজার ৮৫৪ হেক্টর জমিতে ১১ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন রফতানিপণ্য কাঁকড়া ও কুঁচে উৎপাদিত হয়েছিল। এরমধ্যে চীনে রফতানির ৭০ ভাগ কাঁকড়াই বাগেরহাট জেলায় উৎপাদিত হয়ে থাকে। এরমধ্যে গতঅর্থ বছরে ১১ হাজার ৪৩৫ মেট্রিক টন কাঁকড়া ও কুঁচে রফতানি করে দেশ আয় করে ২১৭. ৫৩ কোটি টাকা।

বাগেরহাট সদরের সব থেকে বেশী কাকড়া রফতানিকারক সাধন সাহা বলেন, খামারে এখনও প্রায় ৩০ মেট্রিকটন কাঁকড়া মজুদ রয়েছে। ২২ জন কর্মচারীর বেতন দিতে পারছি না।

জানা যায়, ১৯ ও ২০ জানুয়ারিতে বড় সাইজের এক কেজি শিলা কাঁকড়া ৩ হাজার টাকায় ডিপো মালিকদের কাছে বিক্রি করলেও এখন তা বর্তমানে ৬ থেকে ৮ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিলা কাঁকড়া উৎপাদন ভালো হলেও করোনাভাইরাসের কারণে চীনে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব খামারীদের মতো হাজার-হাজার কাঁকড়া চাষী চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই অবস্থায় ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন নিয়ে কাঁকড়া চাষ করা চাষিরা সর্বশান্ত হবার উপক্রম হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. খালেদ কনক জানান. বাগেরহাটের ৭টি উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে চাষীদের ৩ হাজার ৭৭৮টি খামারে সনাতন ও আধুনিক বক্স পদ্ধতিতে শিলা কাঁকড়া ও কুঁচে চাষ হয়েছে। অধিক ভাবে লাভজনক হওয়ায় বাগেরহাট জেলায় প্রতিবছর শিলা কাঁকড়া ও কুঁচে চাষের জমি ও খামারের সংখ্যা বাড়ছে। এবছর উৎপাদন ভালো হয়েছিলো। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চীনে শিলা কাঁকড়া রফতানির ভরা মৌসুম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে চীনে শিলা কাঁকড়া রফতানি সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই অবস্থায় খামারীদের ক্ষতি কিছুটা কমাতে জেলা মৎস্য বিভাগ সরেজমিনে চাষিদের খামাগুলো পরির্দশন করে পানিতে লবণাক্ততার পরিমান ৫ পিপিটি’র উপরে রাখতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যাতে করে পূর্ন বয়স্ক কাঁকড়া মারা না যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here