ফ্রি কিকেও পানেনকা! এ জাদু মেসির পক্ষেই সম্ভব

0
280

পেনাল্টিতে ‘পানেনকা’ শট নতুন কিছু নয়। স্পটকিকে অনেকেই এই শটে ‘পা–যশ’ দেখিয়েছেন। কিন্তু ফ্রি কিকে এমন কিছু এর আগে কেউ দেখেছেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে। জবাবটা পরোক্ষভাবে দিয়ে দিয়েছেন সার্জিও বুসকেটস, ‘(মাঠের) বাইরে থেকে তার খেলায় বিস্ময় জাগতে পারে। কিন্তু এসবে আমরা আর অবাক হই না। অনুশীলনে সে যা করে, ম্যাচে তা করা আরও কঠিন। কিন্তু আমাদের সয়ে গেছে।’

তা যেতেই পারে। কিন্তু দর্শকেরা কাল লিওনেল মেসিকে আবিষ্কার করেছেন নতুন করে। এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। ৭১ মিনিটে মেসির প্রথম গোল ছাপিয়ে গেছে এই জয়। ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার বিষয়বস্তু, পেনাল্টিতে পানেনকা শট দেখা গেছে। দূরত্বটা মাত্র ১২ গজ হলেও ওখান থেকে পানেনকা শটে গোল করা ভীষণ স্নায়ুচাপের ব্যাপার। একটু গড়বড় হলেই লক্ষ্যভ্রষ্ট। আর সেখানে মেসি কিনা, ফ্রি কিক নিলেন পানেনকা শটে! অনেক ফুটবলারের কাছে এই ভাবনাটুকুই তো দুঃসাহসের শামিল।

কেননা, গোলশূন্য ব্যবধানে থাকা ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে অমন শট অনেকের কাছেই স্রেফ ‘ইচ্ছাপূরণ’ ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না। আর ১২ গজ দূরত্বের পানেনকা শটই বেশির ভাগ সময় গড়বড় হয়ে যায়, সেখানে ২০ গজ দূরত্বের ফ্রি কিকে এই শট নিলে লক্ষ্যভেদের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কিন্তু প্রতিভাদের কাজ হলো শূন্য সম্ভাবনাকে সাফল্যের পূর্ণতা দেওয়া। মানবদেয়াল সামনে রেখে মেসি ২০ গজ দূরত্বের ফ্রি কিকে পানেনকা শট নিয়ে ঠিক এ কাজই করেছেন—গোল!

ফ্রি কিক নেওয়ার আগে কিছুই টের পাওয়া যায়নি। আর দশটা ফ্রি কিকের মতো সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। শুধু এস্পানিওল গোলরক্ষক গোলপোস্টের ডান দিকে একটু সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ডিফেন্ডার ভিক্টর সানচেজ বাঁ প্রান্তে, আর দুজনের সামনে মাঝে মানবদেয়াল। মেসি করলেন কী আলতো শটে—দেখে মনে হবে পাকে চামচ বানিয়ে বল তুলছেন—বলকে এস্পানিওল মানবদেয়ালের ওপর দিয়ে খানিকটা বাঁক খাইয়ে মাঝ বরাবর পাঠালেন। সানচেজ একটু সরে এসে হেডে বলের গতিপথ পাল্টানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কিছুই করার ছিল না, হেডটা শুধু গোল ঠেকানোর ব্যর্থ প্রয়াস। বল তাঁর মাথা ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় জালে।

মেসির অনেক গোলই অনেকের কাছে স্মরণীয়। উপস্থিত বুদ্ধি ও দক্ষতার মিশ্রণে কালকের করা গোলটা এই তালিকায় হয়ে থাকবে সবশেষ সংযোজন। আবার এই গোলটি দিয়ে বার্সা তারকা এক দশকে প্রতি মৌসুমে ন্যূনতম ৪০ গোলের মাইলফলক ছুঁলেন। তবে ফ্রি কিকে মেসি যে পানেনকা শট নেবেন, তা স্বয়ং বার্সা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দেরও ধারণায় ছিল না। ম্যাচ শেষে ভালভার্দে বলেন, ‘সে কী করতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাদের পরিকল্পনার অংশ ছিল, তা বলতে পারলে ভালোই লাগত। কিন্তু ব্যাপারটি সে রকম নয়। সে আমার কোনো কিছু না শুনেই গোলটা করেছে। আশা করি, গোলটা মেসি পাবে।’

ভালভার্দের ইচ্ছাপূরণ হয়েছে। গোলটা ‘আত্মঘাতী’ না লিখে মেসির নামের পাশেই লিখেছেন ম্যাচের রেফারি। তবে ফ্রি কিক থেকে মেসির পানেনকা শটে গোল করা কিন্তু এই প্রথম নয়। ২০১০ সালে আলমেইরার বিপক্ষে ফ্রি কিক থেকে অনেকটা একইভাবে গোল করেছিলেন মেসি। সেবার অবশ্য বল সরাসরি জড়িয়েছিল জালে। তখন আর্জেন্টাইনের বয়স ছিল ২২ বছর। আর এখন চলছে ৩২ বছর। মাঝের এই এক দশকে কত কিছু পাল্টেছে। কিন্তু বল পায়ে মেসির ধার, বুদ্ধিমত্তা আর দক্ষতা থেকে গেছে আগের মতোই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here