পোলিং এজেন্ট হত্যা, ফুটেজে কিছুই নেই দাবি পুলিশের

0
78
নিহত পোলিং এজেন্ট সুমন শিকদার

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলরের পোলিং এজেন্ট সুমন শিকদার (২৪) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন তারা বাবা আনোয়ার আহমেদ। অজ্ঞাত পরিচয়ের ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

অন্যদিকে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে সুমন হত্যাকাণ্ড পুলিশ কয়েকটি কারণ সামনে রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এরমধ্যে রয়েছে- কিশোর গ্রুপের দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রভার বিস্তার, নারীঘটিত বিষয় এবং মাদক সংশ্লিষ্টতা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে মাঠে নেমেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব। এদিকে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করলেও তাতে হামলার কোনও ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফলাফল ঘোষণার পর তারা আনন্দ করতে শনিবার দিবাগত রাত বারোটার দিকে সাজ্জাত, সুমন শিকদার, রুবেল, আলামিন ও ইমরান ওরফে মেসিসহ মোট ছয় জন মোহাম্মদপুর থানাধীন রহিম ব্যাপারী ঘাটে যায়। সেখানে বসে তারা আড্ডা দিচ্ছিল।

আচমকা প্রায় অর্ধশত যুবক সেখানে চাপাতি, লাঠিসোটা ও রড নিয়ে হাজির হয়। যুবকরা সেখানে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শাহ আলম জীবনের খোঁজ করে। যুবকরা জীবনের অফিসে যায়। সেখানে না পেয়ে অদূরে থাকা সুমন শিকদারসহ অন্যদের শাহ আলম জীবন কোথায় তা জানতে চায়। যুবলীগ নেতা শাহ আলম জীবন কোথায়, তা তারা জানে না বলে জানায়।

এ সময় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবকরা সুমন শিকদারকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। এ সময় সুমনের সঙ্গে থাকা তার বন্ধুরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত সুমনের বন্ধু সাজ্জদ জানান, আমি, সুমন (নিহত), রুবেল, আলামিন ও ইমরানসহ ছয়জন মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারের রহিম বেপারি ঘাটে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ অর্ধশত যুবক এসে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা শাহ আলম জীবনের লোক কে কে আছে বলে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে সুমন আহত হলে আমরা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। হামলাকারী সবার মুখে মাস্ক পরা থাকায় কাউকে চিনতে পারিনি।

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রবাহ বিশ্বাস জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুমনের মৃত্যু হয়। বুকের ডান পাশের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষত হলে রক্তক্ষরণেই সুমনের মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের এডিসি (পদোন্নতিতে এসপি) ওয়াহিদুজ্জামান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, সুমনকে হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ জানান, সুমন শিকদার (২৪) হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তারা বাবা আনোয়ার আহমেদ। এ হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত, তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও তাতে কোনও কিছু পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here