নতুন মারণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে উত্তর কোরিয়া

North Korean military

নতুন ধরনের মারণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক খবরের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য  জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি নতুন ধরনের মারণাস্ত্র পরীক্ষার স্থান পরিদর্শন করেছেন। তবে এটা ঠিক কি  ধরণের অস্ত্র তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মারণাস্ত্র নতুন দূর পাল্লার কোন পারমাণবিক অস্ত্র কিংবা অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার ইয়ংবিয়ুন পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘৩৮ নর্থ’  জানায়, পারমাণবিক গবেষণা অব্যাহত রেখেছে উত্তর কোরিয়া।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছিল, যদি যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত  প্রত্যাহার না করে, তাহলে উত্তর কোরিয়া ফের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি শুরু করবে। এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এ সতর্কবানী উচ্চারণ করে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা ও নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে চলতে পারে না।

উত্তর কোরিয়া আরও জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার প্রতি তার নীতি পরিবর্তন না করে তাহলে ‘পিয়ংজিন’ নীতি গ্রহণ করবে দেশটি। এই নীতির মানে হচ্ছে একইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া বলছে , যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জন্য উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে না।

KIM-JONG-UN-1

এর আগে সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিও ইং হো জাতিসংঘের অধিবেশনে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়া’র আস্থা অর্জন করে নিতে হবে। এছাড়া উত্তর কোরিয়া কোন ভাবেই পরমাণু কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করবে না। আর এজন্য উত্তর কোরিয়ার উপর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত  নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা, দেশটির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে জানা গেছে। উত্তর কোরিয় কর্মকর্তারা বলেছেন, পরমাণু বোমা পরীক্ষা স্থগিত করা, একটি পরমাণু ক্ষেত্র বন্ধ করা এবং মার্কিন সৈন্যদের দেহাবশেষ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে তারা ‘অনেক কিছু’ করেছেন। সম্পূর্ণরূপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কিম জং-উন সরকারকে ক্ষমতায় রাখার নিশ্চয়তা না পেলে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা আর চালিয়ে যেতে চায় না উত্তর কোরিয়া।

কূটনীতিকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া চায় ১৯৫০ সালে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা অস্ত্রবিরতি চুক্তিটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে রূপ পাক। কয়েক দশকের বৈরিতার পর বিগত ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন।  এতে কোরীয় দ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একমত হন দুই নেতা।

Please follow and like us:

Post Reads: 50 Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *