ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চিঠি ‘মিসাইল মেইল’ পাঠিয়েছিল আমেরিকা!

Mail-Missile-U.S.-Postal-Service-1959-USS Barbero-article-written-by-ashraful-mahbub

ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল),সাধারণত কোন যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা সামরিক মহড়াতে ব্যবহার করা হয়, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা বললে কেমন হবে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চিঠিও পাঠানো যায়! শুনতে একটু অদ্ভূত বৈকি… কিন্তু এই কাজটি সফলতার সঙ্গে করেছিল আমেরিকা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)।

১৯৫০ সালের পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ক্রমাগত উন্নতি করছিল আমেরিকা।  এ সময়টাতে আমেরিকান মিলিটারি সারা বিশ্বকে কিভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় নিয়ে আসতে পারে সেই গবেষণায় রত ছিল,  এমনকি চাঁদও বাদ যায়নি এই তালিকা থেকে।  যুদ্ধক্ষেত্রে জরুরি বার্তা কিভাবে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানো যায়, তা নিয়ে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেয় আমেরিকা।  চালাতে থাকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জরুরি বার্তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় প্রেরণ।

এর মধ্যেই আমেরিকান মিলিটারির এই প্রকল্পের কথা জানতে পারে আমেরিকার পোস্টাল সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।  এরপর আমেরিকার পোস্টাল সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চিঠি দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর প্রকল্প গ্রহন করে। তারপর যেই কথা সেই কাজ…

Mail-Missile-U.S.-Postal-Service-1959-USS Barbero-1-article-written-by-ashraful-mahbub

অনেক প্রচেষ্টার পর ১৯৫৯ সালের ৮ জুন তারিখ ঠিক হয় বিশ্বের সর্বপ্রথম ‘মিসাইল মেইল’ পাঠানোর। এ দিন আমেরিকার সমুদ্র সীমা থেকে ১০০ মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত মার্কিন নেভির সাবমেরিন ‘ ইউ এস এস বারবেরো’ থেকে ৩২ ফুট লম্বা একটি রেগুলাস-১ মিসাইল (ক্ষেপনাস্ত্র) উৎক্ষেপন করা হয়। মিসাইলটি ৩০০০ চিঠি বহন করছিল।

মিসাইলটির ওয়ারহেড (বোমা) রাখার জায়গায় ২ টি চিঠি ভর্তি বাক্স রাখা হয়েছিল। উৎক্ষেপনের ২২ মিনিট পর গন্তব্যস্থল ফ্লোরিডার মেপোর্ট এয়ার স্টেশনে পৌঁছায় মিসাইলটি।

প্রসঙ্গত, রেগুলাস-১ ক্ষেপনাস্ত্র ছিল মার্কিন নেভির প্রথম ক্রুজ মিসাইল, এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড (বোমা) বহন করতে পারত।  আর এটি গাইডেড মিসাইল হওয়ায় মাটিতে ক্রাশ করার আগেই চিঠি সম্বলিত ২ টি বাক্স মাটিতে ফেলে দেয়। ফলে চিঠিগুলোর কোন ক্ষতি হয়নি। এভাবে ‘মিসাইল মেইল’ এর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চিঠি পাঠানোর সফল পরীক্ষা চালায় আমেরিকা।

চিঠিগুলোর মধ্যে আমেরিকার পোস্টাল সার্ভিসের তৎকালীন পোস্টমাস্টার জেনারেল  আর্থার সামারফিল্ড কর্তৃক তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইজেনহোয়ার, ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন, মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি,  সুপ্রিম কোর্টের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিও ছিল।

তবে কাহিনী এখানেই শেষ নয়, সফলতার সাথে চিঠিগুলো প্রাথমিক গন্তব্যস্থল ফ্লোরিডার মেপোর্ট-এ পৌঁছালেও ফ্লোরিডা থেকে বিভিন্ন স্থানের চিঠিগুলোর মূল প্রাপকদের কাছে এক ডাকঘর থেকে আরেক ডাকঘর হয়ে পৌঁছাতে ৮ দিন সময় লেগেছিল।

যা এই ‘মিসাইল মেইল’ প্রকল্প কে বিতর্কের মুখে ফেলেছিল। এর ফলে পরবর্তীতে এই প্রকল্প বাতিল করা হয়, কারণ চিঠি গুলো বাস্তব প্রেক্ষাপটে ততটা দ্রুত পৌঁছাচ্ছেনা ঠিক যতটা আশা করা হয়েছিল। এভাবেই এই অভিনব, অদ্ভুত প্রকল্পের অবসান ঘটে।

Please follow and like us:

Post Reads: 165 Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *