কানাডায় গাঁজা চাষ,বিক্রয়,বিপণন ও ব্যবসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ

কানাডায় গাঁজা চাষ,বিক্রয়,বিপণন ও ব্যবসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ

সম্প্রতি কানাডায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বৈধ পন্থায় গাঁজা বিক্রি। গত ১৭ অক্টোবর রাষ্ট্রীয়ভাবে বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে মারিজুয়ানা বা গাঁজা সেবনের বৈধতা দেয় জাস্টিন ট্রুডোর কানাডা। এর ফলে গাঁজা সেবনের বৈধতা দেবার জন্য উরুগুয়ের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে নিজের নাম লেখায় দেশটি।

ধারণা করা হচ্ছে, বৈধভাবে গাঁজা বেচাবিক্রি শুরু হওয়ায় এখন ধীরে ধীরে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠবে গাঁজার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কানাডার একটি কলেজে গাঁজা চাষ ও বিক্রয়-বিপণন-ব্যবসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কানাডার ওন্টারিওর নিয়াগারা কলেজে জলবায়ু-নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শিক্ষার্থীদের গাঁজার চাষ, সুরক্ষা, রাসায়নিক পরীক্ষা, রোগের চিকিৎসা ইত্যাদি শেখানো হচ্ছে। এরপর এগুলোকে কিভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত, বিক্রয়-বিপণন করে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে তাও শেখানো হচ্ছে। যেমন -কী পরিমাণ শ্রম ও খরচে কী পরিমাণ গাঁজা উৎপাদন সম্ভব ইত্যাদি।

অপ্রাপ্তবয়স্কদেরকে গাঁজা থেকে দূরে রাখা ও এ সংক্রান্ত অপরাধের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে গাঁজা সেবনের বৈধতা দেওয়ার পদক্ষেপ নেয় কানাডা। সম্প্রতি নতুন পাশ করা গাঁজা সংক্রান্ত বিলটিতে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের বেশি বয়সের একজন ব্যক্তি নিজের ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ গ্রাম পর্যন্ত গাঁজা অধিকার করতে পারবেন।  ১৮ বছরের নিচের কাউকে গাঁজা বিক্রি ফেডারেল আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ, তবে দেশটির প্রদেশগুলো নিজেদের মতো করে এ আইনের আলাদা আলাদা সংস্করণ তৈরি করে নিতে পারবে। আর একজন ব্যক্তি নিজ বাড়িতে সর্বোচ্চ চারটি গাঁজা গাছ রাখতে পারবেন।

পরিসংখ্যানবিদদের হিসেব মতে, গাঁজা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশটিতে প্রায় ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা তৈরি হতে চলেছে।

ইতোমধ্যেই ১০৫টি বাণিজ্যিক সংস্থা দেশটিতে গাঁজা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। তাছাড়া গাঁজার বৈধ লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিবছর ৪০০ মিলিয়ন ডলার ট্যাক্স পেতে চলেছে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার।

Please follow and like us:

Post Reads: 1496 Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *