করোনা আক্রান্ত ১০ হাজার মরদেহ জ্বালিয়ে দিল চীন, স্যাটেলাইট চিত্র!

0
249
১০ হাজার মরদেহ জ্বালিয়ে দিল চীন, স্যাটেলাইট চিত্র!

বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নতুন আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। গত ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখন অবধি সরকারিভাবে ১১১৫ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে চীন প্রশাসন। আর আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার। শুধু তাই নয়, চীনের সীমানা পেরিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্বের ২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি।

গোটা বিশ্ব যখন মহামারি এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত, ঠিক তখনই প্রাণঘাতী করোনা বিস্তারের কেন্দ্রভূমি চীনের উহান শহরে উচ্চমাত্রার সালফার ডাই-অক্সাইডের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এটি সেখানকার ভাইরাস আক্রান্তদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার আভাস দিচ্ছে।

সাম্প্রতি উহান প্রদেশের স্যাটেলাইট ছবি গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা এতটাই তীব্র যে সেই এলাকাগুলোকে একেবারে আলাদা করে চিহ্ণিত করা যাচ্ছে। নির্ধারিত অঞ্চলে বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা প্রতি ঘন মিটারে ১৩৫০ (µg/m3)। এমনই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটারে ৮০ এর বেশি সালফার ডাই অক্সাইড থাকলেই তা যথেষ্ট ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়। সাধারণত নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টস, গণপশু মৃত্যু, প্রচুর কেমিক্যাল বর্জ্য থেকে বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়তে পারে। চীনে এখন এ ধরনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, উহানে গণহারে করোনা আক্রান্ত মানুষের অগ্নিসৎকার চলছে। এই গণসৎকারের তত্ত্ব আরও জোরালো হচ্ছে আরেকটি কারণে। উহান ছাড়া আরও একটি জায়গায় বাতাসের সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। আর সেটা হল চোংকিয়াং। উহানের পর দক্ষিণ চীনের এই প্রদেশ সবচেয়ে খারাপভাবে করোনা আক্রান্ত। এখানে প্রতি ঘনমিটারে বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ছিল ৮০০।

বিজ্ঞানীদের মতে, মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার সময় এই সালফার ডাই-অক্সাইড উৎপাদিত হয়। তাছাড়া মেডিকেল বর্জ্য ভস্মীভূত করলেও এমনটা ঘটে। যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা মানচিত্র পর্যালোচনা করে দাবি করছেন, উহান শহরের প্রান্তেই মরদেহগুলো পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। মূলত বড় জমায়েত এড়ানোর জন্য অল্পসংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে এসব দেহাবশেষ পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং সরকার। এরপরই চীন নিজেদের দেশে হওয়া মহামারির খবর লুকাতে লাশ জ্বালিয়ে দিচ্ছে তত্ত্বটিতে সিলমোহর দিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতকিছুর পরও বারংবার দাবি করা হচ্ছে, ব্যাপক গণভস্মীভূত করণের মাধ্যমে মৃতের সংখ্যা লুকিয়েছে চীন সরকার। যদিও এসব দাবির এখনো কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের দাবি, যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যেই মরদেহগুলো ভস্মীভূত করতে হবে। নয়তো এখান থেকে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, জাপান, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতসহ বেশকিছু দেশে অজ্ঞাত এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। তাছাড়া আতঙ্কে রয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানও। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও ভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের সবাই সম্প্রতি চীনে ভ্রমণ করেছেন কিংবা সেখানে বসবাস করেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here