এই প্রথম দেখা গেল ব্ল্যাক হোল !

0
237

প্রথমবারের মতো কৃষ্ণগহ্বর দেখতে কেমন, তা জানতে পারল বিশ্ববাসী। কৃষ্ণগহ্বরের ছবি ধারণ করার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের (ইএইচটি) ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা

অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে আজ এই কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কৃষ্ণগহ্বরটির আকার প্রায় ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটার। সহজ করে বললে, কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবীর প্রায় ৩০ লাখ গুণ বড়! আকারে এটি এতটাই বিশাল যে বিজ্ঞানীরা একে ‘দৈত্যাকৃতি’র বলে উল্লেখ করেছেন।

কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবী থেকে ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। পৃথিবীজুড়ে স্থাপন করা ৮টি টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই কৃষ্ণগহ্বরের ছবি ধারণ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

আসুন জেনে নেই ব্ল্যাক হোল কি ?

ব্ল্যাক হোলের পেছনে ‘ইভেন্ট হরাইজন’ নামের একটি স্থান আছে, যাকে বলা হয় ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’। এই জায়গায় মহাকর্ষীয় শক্তি এতটাই তীব্র যে এখান থেকে কোনো কিছুই আর ফেরত আসতে পারে না।

ব্ল্যাক হোল হলো এমন একটি জায়গা, যেখানে কোনো কিছু প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না। এমনকি আলোও এই গহ্বরকে অতিক্রম করতে পারে না।

প্রকাশিত ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, কৃষ্ণগহ্বর থেকে ‘আগুনের চক্র’ নির্গত হচ্ছে। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ফালকে বলেছেন, একটি সম্পূর্ণ গোলাকৃতি ও অন্ধকার গহ্বরকে ঘিরে রয়েছে এই আগুনের চক্র। গহ্বরের ভেতরে আটকে পড়া উচ্চ তাপমাত্রার গ্যাসের কারণে এই আগুনের উৎপত্তি বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ফালকে

এত দিন বিজ্ঞানীরা কৃষ্ণগহ্বরের আকৃতি সম্পর্কে যে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও অনুমান করেছিলেন, বাস্তবের কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে তার অধিকাংশই মিলে গেছে। গবেষক দলের সদস্য ড. যিরি ইউনুসি তো এমনটাও বলছেন যে কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে বহু বছর আগে আইনস্টাইন যে ধারণা রেখে গিয়েছিলেন, সেটিই সত্যি প্রমাণিত হতে চলেছে। তিনি বলেছেন, ‘কৃষ্ণগহ্বরের উপস্থিতি সময়, মহাকাশ, এমনকি আমাদের অস্তিত্বের বিষয়গুলোকে অনেক জটিল প্রশ্নের সামনে ফেলে দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here